

রূপের দেওয়া কালো পাঞ্জাবিটা পরে বেরিয়েছে নীল। রূপের পায়ে নীলের দেওয়া নূপুর। দু'জন মাইল নদীর পাড়ে গেলো। অসম্ভব সুন্দর একটা অপরাহ্ণ , সোনালি আভা চারিদিকে। মৃদু বাতাস বইছে। আশপাশে তেমন কেউ নেই। বেশ ফাঁকা। দু'জন সামনা সামনি দাঁড়িয়ে। কেউ কিছু বলতে পারছে না। নীল দেখছে রূপের পায়ে নূপুর দুটো কতো সুন্দর লাগছে ,ওর বুকের ভেতর জমে থাকা ভালোবাসার কথাগুলো বেরিয়ে আসে মৃদু আলোড়নে। 'সারাজীবনের জন্য তোমার হাত দুটো ধরতে চাই। ধরে রাখতে চাই। যেমনটা তুমি দেখেছিলে স্বপ্নে'-বলে নীল দাঁড়িয়েই রইল। রূপ নিজেই হাত দুটো রাখলো নীলের দুহাতে। অদ্ভুত রকম ভালোলাগা কাজ করছে ওদের মনের ভেতর। হঠাৎ নীল রূপকে গভীর আলিঙ্গন করলো। তখন সূর্য প্রায় ডুবে গেছে.... অমৃতি চায় নাম , যশ , খ্যাতি। একজন সেলিব্রেটি হতে চায়। কোনো কোনো দিন অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে থাকে , নানান ধরণের মানুষের সাথে মেশে। কোন মানুষ কোন ফন্দি নিয়ে আছে এসবতো আর অমৃতি জানে না। পেশায় ডাক্তার সত্যব্রত স্বামী হিসেবে এগুলো বোঝাতে গেলে অমৃতি তাকে ভুল বোঝে। কথা - কাটাকাটি হয়। ..... ভালোবাসার মানুষের স্মৃতি আগলে রেখে একাকী জীবন কাটিয়ে দেন জামান সাহেব। কখনো খুব বেশি নস্টালজিক হলে নিজেকে সামলে নেন। কথা বলেন খাঁচায় পোষা ময়নার সাথে , বারান্দার গাছগুলোর সাথে। রোমান্টিকতা , উপেক্ষা , ক্ষোভ এসবের নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কতো কঠিন পরিণতির দিকে যেতে থাকে সেসব নিয়েই এ উপন্যাস।