

২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি বর্বর বাহিনী যখন ঘুমন্ত বাঙালি জাতির উপর পরিকল্পিত গণহত্যা চালায় তখন মোনায়েম সরকার তা স্বচক্ষে দেখেছেন। সেই রাতে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সাইন্স ল্যাবরেটরি (এলিফ্যান্ট রোড) এলাকাতে তার এক আত্নীয়ের বাড়িতে থাকতে বাধ্য হয়েছিলেন। মধ্যরাতে গুলির আওয়াজ আর আগুনের আলোতে তার ঘুম ভেঙে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ও তার আশেপাশের বস্তিতে সেদিন কি তাণ্ডব চলছিল তা বুঝে নিতে তার এতটুকু অসুবিধা হয়নি। ২৬ মার্চ শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। তখন অধ্যাপক গৌরাঙ্গ প্রসাদ মিত্রের মোটর সাইকেলে করে প্রথমেই যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে। সেখানে গিয়ে যা দেখেন তা বর্ণনাতীত। ২৫ মার্চ রাতে পুরো ঢাকা শহর এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ১৯৮১ সালে জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়, ওই সময় গড়ে প্রতিদিন ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার বাঙালিকে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত গণহত্যা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাক। সেই দায়বোধ থেকেই নতুন প্রজন্মের জন্য এই গ্রন্থ সংকলন করেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোনায়েম সরকার। আশাকরি নতুন জন্ম আদরের সঙ্গেই গ্রন্থটি গ্রহণ করবে।