
ধীরেন বাবু এই মুহুর্তে প্রচন্ড বিরক্ত ওই ব্যাটা জয়নুলের উপর। এটা কোনো কাজ হল! তাকে এই মধ্যরাতে অশ্বথ গাছের নিচে দাঁড় করিয়ে, সে ছুটেছে নৌকা আনতে অন্য ঘাটে। ব্যাটা তুই আগে বলবি তো তোর নৌকা পূব ঘাটে বাঁধা আছে, তবে তো এই পথে না এসে পূব ঘাটেই যাওয়া যেত। রোগীর মুমূর্ষু অবস্থায় প্রতিটা মুহূর্ত তার কাছে হীরার চেয়ে দামি। সেই রকম একটা সময়ে অযথা দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করা যে তার কাছে কতটা বিরক্তের তা এই মূর্খ ঘাটের মাঝি বুঝবে তেমন জ্ঞান ওর ঘটে যে নেই তা অবশ্য তিনি হলফ করেই বলতে পারেন। অশ্বথ গাছের পাতার ভাঁজ ভেঙে এই পথে চাঁদের ধার করা আলোটুকু পৌছাতে পারছে না তাই কিছুটা অন্ধকারও বটে জায়গাটা। তবে চোখ প্রসারিত করলে সামনের পথটুকু ঠিকই দেখতে পারছেন তিনি। উপায়ন্তর না দেখে বিরবির করে জয়নুলকে গালাগালি করতে করতে একটা সময় ডাঃ ধীরেন্দ্র দেবনাথ পা বাড়ান জোছনার আলোর দেখানো পথে। একটু এগোতেই খেয়াল করেন ঘাটে একটা নৌকা দাঁড়ানো। আরও পরিস্কার ভাবে দেখতে এগিয়ে এলেন ধীরেন বাবু। ঠিক দেখেছেন তিনি, এই ঘাটে একটা নৌকা ঠিকই অপেক্ষায় আছে এখনো পারাপারের জন্য। কেন জানি আর একটা মুহূর্তও দেরি করতে মন চাইল না। তাই তিনি বন্ধুর পথ বেয়ে নেমে এলেন নৌকার কাছাকাছি। ওমা, এ তিনি কী দেখছেন? নৌকার মাঝিতো এক সদ্য কৈশোর পেরুনো নারী।